বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গোপালগঞ্জে বিএনপি’র বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ: মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা সাংবাদিকের ওপর জামায়াতের হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন জেলা প্রশাসন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মহোদয় নদী পুনরুদ্ধারে সরকার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে: শিবালয়ে ত্রাণমন্ত্রী সাংবাদিকের ওপর জামায়াতের হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী, ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল দ্বৈরথ কি দেখা যাবে বিশ্বকাপে? শেষ পত্রে দেখা মিলবে তিন কিংবদন্তির মার্কিন সিনেটে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প পরীক্ষায় নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

কমলনগরে আদালতের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে একযুগ ধরে ৪ হাজার বিবাহ নিবন্ধন করেন ‘কাজী’!

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অসদুপায়ে নিয়োগ হাসিলকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে একযুগ ধরে বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহসহ ৪ হাজার বিবাহ ও সহস্রাধিক তালাকনামা নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে।

এতে প্রায় ১২ বছরে প্রায় ৪ হাজার বিবাহ নিবন্ধন করে জনগণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ভয়াবহ তথ্য ফুটে উঠেছে। কমলগরের চর কাদিরা ইউনিয়নের অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান তথ্য গোপনের মাধ্যমে বিগত ১০ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৭/২ এন-২৭/২০১১-১৪৮০/১(৯)এর আলোকে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদ হাসিল করে থাকেন। উল্লেখ্য, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ‘একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ প্রত্যাশীকে অবশ্যই নিয়োগ লাভের জন্য শূন্য অধিক্ষেত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে ‘।

কিন্তু বিতর্কিত আবদুর রহমান সম্পূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে অন্য ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্বেও চর কাদিরা ইউনিয়নে নিয়োগ হাসিল করেন।যা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা ২০০৯’ এর ১১ বিধিমতে অসদাচরণ, চাকুরি হতে বরখাস্তযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, আবদুর রহমানের স্থায়ী আবাস কমলনগরের হাজির হাট ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডস্থ লরেঞ্চ বাজারের পূর্বপার্শ্বে রুচনের বাপের বাড়ি। তিনি নোয়াখালী জেলাতে পড়াশোনা করার সুবাদে নোয়াখালীতে ভোটার হন। ১০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ লাভের পরে তিনি ২০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে চর কাদিরা ইউনিয়নে জমিন খরিদ করেন নোয়াখালী থেকে ভোটার স্থানান্তর করে চর কাদিরায় ভোটার তালিকাভূক্ত হওয়ার নিমিত্তে।

হাজির হাট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং চর কাদিরার কোনরুপ বাসিন্দা না হওয়ায় তাঁর অবৈধ নিয়োগ আদেশ বাতিলের জন্য তৎকালিন চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন রাজন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়র সচিব বরাবর ১৬ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে ও ১১ ডিসেম্বর ২০১৩’ তারিখে লক্ষ্মীপুর জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করেন। তৎকালীন হাজির হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাছেত হেলাল তাঁর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা মর্মে আবদুর রহমান নামীয় প্রত্যয়ন পত্র ও জন্ম নিবন্ধন প্রদান করেন।

তথ্য গোপনের মাধ্যমে পাওয়া নিয়োগাদেশ বাতিল ও স্থগিত চেয়ে চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা জনৈক মোসলেহ উদ্দিন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দাখিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট ১৮ মে ২০১৪’ খ্রিঃ তারিখে তাঁর নিয়োগাদেশের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। উক্ত স্থগিতাদেশ গোপন ও অমান্য করে আবদুর রহমান টানা একযুগ ধরে হাজার হাজার বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করে জনগণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিশদ বিবরনে জানা যায়, আবদুর রহমান নিজে ১২ বছরের স্থগিতাদেশ গোপন করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে অন্ধকারে রেখে স্থগিতাদেশ অবস্থায় বিগত ২৯ জুন ২০২৫’ তারিখে কমলনগরের হাজির হাট ইউনিয়নের শূন্য অধিক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিনিয়ে নিলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ইউনিয়নটির নিয়মিত নিকাহ রেজিস্ট্রার অবসর নেয়ার পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান উপজেলার লরেঞ্চ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ কাজী’ আবদুল লতিফ। কিন্তু ‘রহস্যজনক উপায়ে’ তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার তাঁর পিআরএল গমনের আগের দিন আবদুল লতিফের অতিরিক্ত দায়িত্বের আদেশ বাতিল করে একযুগ স্থগিতাদেশে থাকা চর কাদিরা ইউনিয়নের কাজী আবদুর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।

এর পরপরই আবদুর রহমানের নিয়োগকালীন অসঙ্গতি, রীট পিটিশনের স্থগিতাদেশ গোপন রাখা ও নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য, চিত্র উদঘাটন ও প্রকাশ হতে থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাঁর স্থগিতাদেশ থাকার কথা তিনি জানতেননা, বর্তমানে আমি (রহমান) ১৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রিঃ তারিখে মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছি । এতে উপস্থিত সংবাদকর্মী রহমানকে জানতে চান, ‘স্থগিতাদেশ সম্পর্কে অবগত না থাকলে কিভাবে ১২ বছর পরে মামলা থেকে অব্যহতি নিলেন? এবং রীট পিটিশনের শুনানির জন্য তিনি নিজেই আগে কিভাবে ব্যবস্থা নিলেন? তাকে আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘টানা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থগিতাদেশ গোপন রেখে কয়খানা বালাম বহি বা কতটা বিবাহ নিবন্ধন করেছেন? তখন তিনি জানালেন প্রায় ৩৬ টা বালাম বহিয়ে ৩৬০০ খানা বিবাহ ও হাজারের মতো তালাক রেজিস্ট্রি করে থাকেন। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগকালীন সময়ে তথ্য গোপন করে স্থায়ী বাসিন্দা না হয়ে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও অবৈধ উপায়ে নিয়োগ হাসিল করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ নেয়ার পরে নোয়াখালী জেলার ভোটার থেকে স্থানান্তরের নিমিত্তে বিগত ২০ নভেম্বর ২০১৩’ তারিখে নিজ নামে জমিন খরিদ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাও এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হাজির হাট ইউনিয়নের প্রথম অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্রাপ্ত কাজী আবদুল লতিফ জানান, অভিযুক্ত আবদুর রহমান নিয়োগকালীন সময়ে অসত্য তথ্য দিয়ে নিয়োগ লাভ করলে যাহা মহামান্য হাইকোর্ট ১৮মে ২০১৪ তারিখে স্থগিত করেন কিন্তু তিনি তথ্য গোপনের মাধ্যমে ১২ বছরের স্থগিতাদেশ গোপন রেখে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে দেয়া হাজির হাট ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে কোন কারন ব্যতিরেকে বাতিল করিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন আবদুর রহমান নিয়োগকালীন সময়ে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেন তাই চর কাদিরা নিয়োগ বাতিলে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করে থাকি।

আরও পড়ুন – লক্ষ্মীপুরে মিয়ারবেড়ী ইউনিয়ন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

এ দিকে অনিয়ম দুর্নীতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিকাহ রেজিস্ট্রির মতো মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় এবং টানা ১২ বছর স্থগিতাদেশ গোপন করে প্রতারনামূলক বিবাহ নিবন্ধন করায় আবদুর রহমানের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন চর কাদিরা ইউনিয়নের চর পাগলা গ্রামের আবদুর রহিম, আবুল কাশেম, চর ঠিকার মোস্তফা, শামিম, চর বসু গ্রামের বেলাল, শাহজালালসহ ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকসমাজ।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন জানান, আমি মূলত ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করেছি। টানা একযুগ ধরে অভিযুক্ত আবদুর রহমান স্থগিতাদেশ গোপন করে নিকাহ রেজিস্ট্রি কাজ পরিচালনা করার বিষয় ও তাঁর নিয়োগকালীন তথ্য গোপনের বিষয়ে অচিরেই তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: