বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বনপাড়ার ‘আমানা বিগ বাজার’-এ মূল্য জালিয়াতি, ভ্যাট ফাঁকি ও মাদক উপকরণ বিক্রির অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার, নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ক্রেতা সঙ্কটে হল্টেড এক ডজন প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী সীমান্তে দুইদিনের পৃথক অভিযানে ২লাখ ৭৬ হাজার টাকার মাদক আটক কালিয়াকৈরে ওসির বিরুদ্ধে জব্দ ঘোড়া বিক্রির অভিযোগ, পরে সমালোচনার মুখে নিলামে বিক্রি করল প্রশাসন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির তাগিদ রাসিক প্রশাসকের ফুলবাড়ীতে সর্দি, জ্বর ও ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ চৌদ্দগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ল সিএনজি চালকের বসতঘর হেফাজত নেতা নদভীর মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক এশিয়ান কাপ বাছাই আজ, জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে আওয়ামী দুর্গে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এম এইচ খান মঞ্জু

শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ থেকে : দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপি এবং তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এইচ খান মঞ্জু সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, এম এইচ খান মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার শিকার হয়েও তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু জনপ্রিয় নন, বরং একজন মানবিক ও উন্নয়নমুখী রাজনীতিক হিসেবেও সুপরিচিত। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ উন্নয়নে তার ভূমিকা এলাকায় প্রশংসিত। স্থানীয়দের মতে, গোপালগঞ্জ বিএনপিতে তার বিকল্প কোনো নেতৃত্ব এখনো তৈরি হয়নি।

গোপালগঞ্জের রাজনীতি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামীলীগ নির্ভর হলেও, বিএনপির একটি সংগঠিত কাঠামো তৃণমূলে বিদ্যমান। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং জনগণ বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে এম এইচ খান মঞ্জুকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব.) অহিদুল হক মোল্লা বলেন,“গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের এই দুর্গ ভাঙতে সক্ষম একমাত্র নেতা হলেন এম এইচ খান মঞ্জু। তার মতো অভিজ্ঞ নেতা থাকলে তৃণমূল আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। তিনি শুধু দলের নয়, সাধারণ মানুষেরও আপনজন।”

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন বলেন,“গোপালগঞ্জে বিএনপির বহু কর্মী নির্যাতনের মুখেও দলের পতাকা ধরে রেখেছেন। এম এইচ খান মঞ্জু সবসময় তাদের পাশে থেকেছেন। তার প্রার্থিতা তৃণমূলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।”
গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সভাপতি রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন,“রাজনীতির বাইরে একজন মানুষ হিসেবে এম এইচ খান মঞ্জু অত্যন্ত নম্র ও মানবিক। তিনি আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে সবসময় থেকেছেন। এ কারণে দলমত নির্বিশেষে তার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে।”

জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক মাসুদ শেখ বলেন,“গোপালগঞ্জে বিএনপি দুর্বল নয়। সুযোগ পেলে জনগণ বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে এম এইচ খান মঞ্জুকে গ্রহণ করবে। শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি ভালোভাবে বোঝেন। আমরা বিশ্বাস করি, এম এইচ খান মঞ্জুকে মনোনয়ন দিলে গোপালগঞ্জ থেকেও বিএনপি একটি সংসদ সদস্য পেতে পারে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বিএনপির প্রার্থিতা অনেক সময় প্রতীকী মনে হলেও, এম এইচ খান মঞ্জুর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফা গোপালগঞ্জের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার মূল বিষয়—
“আওয়ামী লীগের দূর্গ গোপালগঞ্জে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এইচ খান মঞ্জু কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন?” গোপালগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা: “জনতার নেতা এম এইচ খান মঞ্জু—এখন সময়ের দাবি।”


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: