শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী। মধ্য পৌষেই প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে জেলায় সূর্যের দেখা নেই।
শীতের তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। কৃষকরা ফসলের মাঠে খেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। নিম্নআয়ের মানুষজন শীত নিবারণে পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, অনেককে আবার খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ফুলবাড়ী পৌরশহরসহ প্রত্যন্ত এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। তিন দিনেও সূর্যের আলো না পাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
উপজেলার দিনমজুর চকচকা গ্রামের মনতা হোসেন বলেন, প্রচন্ড শীত আর উত্তরের বাতাসে মাঠে কাজ করা খুব কষ্টকর। তবুও সংসারের তাগিদে কাজে বের হতে হচ্ছে। কাজ না করলে পরিবার চলবে না।
কয়েকজন রিকশাচালক জানালেন, ঘন কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম, যাত্রীও মিলছে না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বচাকেনা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ বেশি।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানায়, আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ।
তিনি জানান, চলমান এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।