শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন

জ্ঞানের সব শাখায় বাংলাকে স্থান দিতে হবে: সালেহ হাসান নকীব

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য আপনি কীভাবে দেখেন?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারির মূল তাৎপর্য হলো মাতৃভাষার লালন ও চর্চাকে শক্তিশালী করা। রাষ্ট্রীয় জীবনের সব অঙ্গেই মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অন্য দেশের উদাহরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
কোরিয়া বা জাপানের মতো দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো কোনো বিশেষ প্রাপ্তি নেই। কিন্তু তারা জ্ঞানের সব শাখায় নিজেদের ভাষা প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদেরও সেই কাজটি করতে হবে—কারণ মানুষ চিন্তা করে নিজের ভাষায়, তাই জ্ঞান অর্জনের সব মাধ্যমেই বাংলাকে নিয়ে আসতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান ঘাটতি কোথায়?
সবচেয়ে বড় কাজটি আমরা করতে পারিনি—পৃথিবীর জ্ঞানভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো চমৎকারভাবে বাংলায় অনুবাদ করা। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বই পাঠ্য, সেগুলোর মানসম্মত বাংলা সংস্করণ তৈরি করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা করতে পারবে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এই কাজ বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?
এটি এত বড় কাজ যে রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়। যেমন বাংলা একাডেমি-র সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে ক্লাসিক ও বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর বাংলা সংস্করণ প্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের কারিকুলাম প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ থাকতে হবে।

ভাষাশহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা কীভাবে জানানো সম্ভব?
আমাদের যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আছে, তা অন্য অনেক জাতির নেই। ভাষাশহীদদের প্রতি সবচেয়ে শক্তিশালী শ্রদ্ধা হবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার চর্চা আরও বাড়ানো। বাংলা ভাষার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে এবং নিজ ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: