শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাজিমগঞ্জ বাজারের প্রবীণ মাংস ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ আর নেই পুরনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, কার্যকর আইন আনছে সরকার: আবুল খায়ের ভূঁইয়া ফুলবাড়ীতে আমন চাষে তোড়জোড়, জলাবদ্ধতা থেকে চারা গাছ রক্ষায় দোগাছি তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক গোপালগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা অফিসার উজিরপুরের মোঃ শহিদুল ইসলাম লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গাছের চারা বিতরণ ও ফলজ বাগান উদ্ধোধন কুমিল্লার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার সঙ্গে কামরুল হুদার সাক্ষাৎকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিন গোলামালির রস-কিচ্ছা- আশরাফ উদ্দীন আহমদ

শীতে চর্মরোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ

বাঙলা জাগরণ ডেস্ক.
সাধারণ ভাবেই শীতে আবহাওয়া জনিত কারণে আমাদের শরীরের আদ্রতা কমে যায়। তাই শীত মানেই রুক্ষ, শুষ্ক ত্বক। ফলে বেড়ে যায় নানা ধরনের চর্মরোগের।

তাই অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে শীতের মৌসুমে ত্বকের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরি। শীতে চর্মরোগ কেন বাড়ে এবং এই সময়ে কি করা প্রয়োজন এ বিষয়ে বলেছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (এসএমও) ডা. এস. এম. নওশের। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার পরামর্শ –

ড. নওশের: শীতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কমে যায়। যার ফলে ত্বকের সেবাম বা প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ কমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। মূলত এই কারনেই শীতে চর্মরোগ বেড়ে যায়।

ড. নওশের: শীতে বাতাস থাকে ঠান্ডা ও শুষ্ক। এটা ত্বকের স্ট্র্যাটাম কর্নিয়ামের পানি শুষে নেয়। এতে লিপিড লেয়ার ভেঙে যায়, ত্বক থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়, ত্বক ফেটে যায়; ফলে জীবাণু সহজে প্রবেশ করে।

ড. নওশের: শীতে জেরোসিস বা অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, একজিমা, সোরিয়াসিস, চিলব্লেইন, স্ক্যাবিস, ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও ঠোঁট ফাটা রোগ বেশি দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো শুষ্কতা ও ইমিউন ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে।

ড. নওশের: একজিমা ও সোরিয়াসিস বাড়ে কারন শীতে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ইনফ্ল্যামেশন বা ঘা বাড়ে। সোরিয়াসিসে সানলাইট কম পাওয়ায় ভিটামিন ডি কমে যায়, যার ফলে সোরিয়াসিস বাড়ে। একজিমা হলে ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ধুলো, জীবাণু, রাসায়নিক বা অ্যালার্জেন সহজেই ত্বকের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ড. নওশের: হ্যাঁ, নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। এতে শুষ্কতা, চুলকানি ও একজিমা বেড়ে যায়। তাই কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা উত্তম।

ড. নওশের: সাবান ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারে ভুলগুলো হলো হার্শ সাবান, অ্যালকোহলযুক্ত ফেসওয়াশ, অতিরিক্ত ফোমিং ক্লিনজার ও ঘন ঘন ব্যবহার করা । কারন এতে ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স নষ্ট হয়।

ড. নওশের: শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতকালীন চর্মরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ শিশুদের ত্বক পাতলা ও অপরিণত, আর বয়স্কদের শরীরে সেবাম উৎপাদন কম হয়। যার ফলে উভয়ের ইমিউন ব্যারিয়ার দুর্বল হওয়ায় শীতে সমস্যা বাড়ে।

ড. নওশের: জি। শীতকালে পানি কম খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিন এ, ই, সি ও ওমেগা-৩ এর অভাবে ত্বক শুষ্ক ও দুর্বল হয়।

ড. নওশের: শীতকালে ত্বকের যত্নে মানুষ সাধারণত যে ভুলগুলো করে তা হলো ময়েশ্চারাইজার না লাগানো, ভুল ক্রিম ব্যবহার, অতিরিক্ত স্ক্রাব, ঘরের হিটার ব্যবহার করে বাতাস আরও শুষ্ক করা।

ড. নওশের: আমি বলবো, দিনে ২–৩ বার ভালো ময়েশ্চারাইজার যুক্ত লোশন বা ক্রিম ব্যবহার, কুসুম গরম পানিতে স্বল্প সময় গোসল করা ও গোসলের সময় মাইল্ড সাবান ব্যবহার করা উচিত। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আর যদি কোন চর্মরোগ দেখা দেয় বা বাড়ে তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: