রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মুক্তারপুরে ইটবোঝাই ট্রলার ডুবি, ১১ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার গোপালগঞ্জ-২ সদর আসনের সাংসদকে উপজেলা পরিষদ ও ২১ ইউপি চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা অনুমতি ছাড়াই ফুলবাড়ীতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ নড়াইলের লোহাগড়া লিটল চিলড্রেন ইংলিশ স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মার্কিন ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবি, সংসদে আলোচনার আহ্বান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের CASA আমানতে ২,১০০ কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি বিদেশি ঋণ আর সহায়তা জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না ফের পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার লড়াই কঠিন করে তুলল রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

আমার মুখের আহার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, সেটা কী বলার অধিকারও আমার নেই?

এমবিসিবির সভাপতি মো. আসলাম-

চলতি মাসের ১৯ তারিখে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

এই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস এবং দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন ইনচার্জ মিজানুর রহমান সোহেলকে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একইসঙ্গে এমবিসিবির সভাপতি মো. আসলামের বাসায়ও যান ডিবির সদস্যরা। তবে আত্মগোপনে থাকায় তাকে আটক করতে ব্যর্থ হয় ডিবি পুলিশ।

এনইআইআরের বিভিন্ন দিক এবং সাংবাদিক সোহেল ও এমবিসিবির সাঈদ পিয়াসকে আটকের বিষয়ে প্রশ্নের মুখে এমবিসিবির সভাপতি মো. আসলাম।

দেশের বাজারে এনইআইআর কিভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে?

মো. আসলাম:
গত মাসের (অক্টোবর) ২৯ তারিখে বিটিআরসির মাধ্যমে জানতে পারি সরকার এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে। ৩০ তারিখে তাদের অফিসে গেলে তারা জানান, সরকার থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এনইআইআর চালু হলে কোথায় যেয়ে বিপদে পড়বে সেটা কিন্তু এদেশের মানুষ এখনও জানে না। যারা এই আদেশ জারি করেছেন, তাদের উচিৎ ছিল একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে জানানো। দুই কোটি প্রবাসী আছে আমাদের। তারা ছুটি কাটাতে যখন দেশে আসবে, তখন মোবাইল নিয়ে এলেও কাজ করবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানেন না ১৬ ডিসেম্বরের পরে কি হবে। এই নিয়ম চালু হলে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার মাল অকেজো হয়ে যাবে।

সরকার ব্যবসায়ীদের কথা ভাবছে কি না?

মো. আসলাম:
৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানোর পরে ব্যবসায়ীরা কিন্তু ভালো নেই। এর কারণ অস্বাভাবিক সুদের হার। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ সুদের হার আগে কখনো দেখা যায়নি। যারা দেশের টাকাওয়ালা ছিল, তারাও দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। মোবাইল কিন্তু একই সাথে জরুরি এবং সৌখিন পণ্য। শেখ হাসিনা পালানোর পরে দুর্নীতিবাজরা দেশ থেকে পালিয়েছে। তাই সবার আগে ধাক্কাটা এসেছে মোবাইলের বাজারে। আমাদের বিক্রির পরিধি অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু আমাদের খরচ কিন্তু আরো বেড়ে গিয়েছে। এই কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাবটা পড়ছে।

নয়জন ব্যবসায়ী বনাম ২৫ জন ব্যবসায়ী, বিষয়টি আপনাদের ওপর প্রহসন কি না?

মো. আসলাম:
নয়জন আমি বলব না। বলব ৯টা কোম্পানি, যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। ব্যবসায়ী ২৫ হাজার আর খানেওয়ালা ২০ থেকে ২২ লাখ। আমাদের ব্যবসায়ের আয় খায় আমাদের পরিবার আর কর্মচারীসহ তাদের পরিবার। আমরা কখনোই ৯টা কোম্পানির ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে বলিনি। আমরাই কিন্তু ওনাদের পণ্য বিক্রি করি। জরিপে আছে এই দেশে প্রতিবছরে এক কোটি মোবাইলফোনের চাহিদা থাকে। এই নয়টা কোম্পানি প্রতিবছর উৎপাদন করে ২২ লাখ মোবাইল। ৭৮ লাখ মোবাইলফোন কিন্তু বাকি থাকে। সেই মোবাইলের জোগান আমরা দেই। এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে ৭৮ শতাংশ ঘাটতি কোম্পানিগুলো পূরণ করতে পারবে না। তখন বাজারটি কোম্পানিগুলোর কাছে বন্দি হয়ে যাবে। মোবাইলের দাম অনেক বেড়ে যাবে। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দু’টি মোবাইল নিয়ে এলে ১৬ ডিসেম্বরের পরে বাংলাদেশে আর কাজ করবে না। আমরা ট্যাক্স দিয়েই মোবাইল আনতে চাই। তবে এই নিয়ম চালু হলে সব থেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে ভোক্তারা।

সাংবাদিক সোহেল এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পিয়াস আটক হয়েছিলেন। আপনাকে আটক করতে যায়নি?

মো. আসলাম:
এই ঘটনার আগে সাংবাদিক সোহেলের সাথে আমার পরিচয় ছিল না। আমাদের এই বিষয়টি তুলে ধরতে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করি। এই বিষয়ে সাংবাদিক হিসেবে সোহেল ভাই আমাদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন। আমাকে আমাদের সাধারণ সম্পাদক পিয়াস প্রথমে খবর দেয় সাংবাদিক সাহেবকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে গেছে। রাত তিনটা নাগাদ আমি খবর পাই পিয়াসের বাসায় ডিবি গিয়েছে এবং তাকেও আটক করা হয়েছে। ভয়ে আমি তখন আত্মগোপনে চলে যাই। রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ আমার বাসায় পিয়াসসহ ডিবি হানা দেয়। আমার বাসায় আমার মেয়ে এবং আমার স্ত্রী ছিল। তারা আমার বাসা তল্লাশি করে আমাকে খুঁজে পাইনি। পরবর্তীতে ভোর পাঁচটার দিকে তারা আমার বাসা থেকে চলে যায়।

ডিবি কেন দু’জনকে আটক করল? কী মনে হয় আপনার?

মো. আসলাম: ডিবির কি খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নেই, যে আমাদের সংগঠনের লোকজনকে আটক করতে যাবে। ডিবিকে ওপর মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে। ওপর মহলটা কে, আপনারা সবাই ভালো জানেন। ডিবি, পুলিশ, র্যা ব; উনারা ওপর মহলের নির্দেশনা পালন করেন। কিন্তু আমরা তো শান্তিপ্রিয় মানুষ। ব্যবসা করছি এবং ভ্যাট ট্যাক্স দিচ্ছি নিয়মিত। এখন আমাদের ওপর যে জুলুমটা হচ্ছে, সেটা আমরা দেশবাসীকে জানাবো। ১৬ তারিখের (ডিসেম্বর) পরে আমরা ব্যবসা করতে পারবো না, এটা সরকারকে জানাবো। আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। আমরা তো সংবাদ সম্মেলন ডেকেও সেখানে উপস্থিত হতে পারলাম না। ব্যবসায়ীদের কণ্ঠরোধ করছেন কেন? আমার মুখের আহার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, সেটা কি বলার অধিকারও আমার নেই? আমার সাথে না খেতে পেরে আমার পরিবারও তো রাস্তায় নামবে। আমরা ২৫ হাজার ব্যবসায়ী পথে বসব। আমাদের সাথে খানেওয়ালা ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষের কি হবে?

ডিবির এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের সাদৃশ্য দেখছেন কি?

মো. আসলাম: আমরা যারা ব্যবসা করি, জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের কি অবদান নেই? শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার এই স্পটে, আমাদের সন্তানেরা এবং আমাদের লোকজন সক্রিয় ছিল। পানি বিতরণসহ বিভিন্ন কাজ আমরা করেছি। আমরাও তো তখন স্বাধীনভাবে বাঁচতে চেয়েছি। আমাদের কন্ঠটা রোধ করা হয়েছিল জন্যই তো ৫ আগস্ট ঘটেছে। এখন যারা দায়িত্বে বসেছেন ৫ আগস্টের আগে কিন্তু তারা এখানে ছিলেন না। আমরা ছিলাম এখানে। আমাদের সন্তানেরা ছিল। চূড়ান্ত বিজয় আমাদের হাত ধরেই এসেছে। হারুনের ভাতের হোটেল আমরা আর চাই না। সেদিন সাংবাদিকেরা বলেছিল-তাহলে কি হারুনের ভাতের হোটেল আবারও ডিবি অফিসে চালু হয়েছে? ডিবিকে ওপরমহল থেকে বলা হয়েছে, আমরা সরকারবিরোধী লোক। আমরা যদি সরকারবিরোধী হই, তাহলে সরকারের লোক কারা? আমাদের ছেলেমেয়েরাই তো আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলন থেকে আমাদের কিভাবে আলাদা করবেন?

আপনারা পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেবেন?

মো. আসলাম: আমরা ছয়টা দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। বিটিআরসি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, এনবিআর এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার অনুরোধ করেছি। আগামী রোববার ২৩ তারিখ, এই তিন কার্যদিবস শেষ হবে। ওখানকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমরা ভেবে দেখবো কি করবো। আমরা ব্যবসায়ীরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। বিষয়টি সুরাহা না হলে আমরা হয়তো দোকানপাট বন্ধ রাখবো, মানববন্ধন করবো।

 


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: