সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মমতাজুর রহমানের ইন্তেকাল ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আনিস কাশিয়ানীতে পাউরুটি কিনতে গিয়ে দুই শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার, অভিযুক্ত পলাতক লক্ষ্মীপুরে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ চৌদ্দগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাদীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ বাংলাদেশের হারে ফাইনালের পথ সহজ হলো ভারতের ইউক্রেনকে ৯২০ কোটি ডলার দিচ্ছে নরওয়ে এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি খালেদা জিয়ার সাজে অভিনেত্রী চমক, যা বলছেন নেটিজেনরা ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলা: ৪ দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র

জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্প নির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি চ্যানেল 24 অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু সাংবাদিক প্রিসিলা রাজ।

তিনি জানান, এজমা থেকে সৃষ্ট জটিলতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী শিল্পী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল কমপক্ষে ৭৩ বছর।বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়। তার পরিবার তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৫৩ সালের নভেম্বরে রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন তরুণ ঘোষ। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ভারতের বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তরুণ ঘোষ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। ১৯৭৯ সালে রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কলেজটি পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ হিসাবে যুক্ত হয়। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের বরোদায় অবস্থিত এম এস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে ‘কীপার’ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন তরুণ ঘোষ। চাকরি জীবনের পাশাপাশি তরুণ ঘোষ স্বাধীনভাবে চিত্রকর্ম সৃষ্টির কাজ করে গেছেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্প নির্দেশনায়ও তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় আবু সাইয়ীদের চলচ্চিত্র ‘কিত্তনখোলা’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’-সহ একাধিক চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন।

সর্বশেষ তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’-তেও শিল্প নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন।

তরুণ ঘোষের চিত্রকর্মে বাংলার লোকঐতিহ্য, মিথ ও ইতিহাস আধুনিক ব্যাখ্যা সহযোগে উঠে এসেছে বলে নানা সময়ে উল্লেখ করেছেন শিল্পবোদ্ধারা। তার বিখ্যাত ‘বেহুলা’ সিরিজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশাল ক্যানভাস সিরিজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পাখি, প্রকৃতি, প্রতিকৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতির নানা দিক তারর কাজে প্রতিফলিত হয়েছে।

তরুণ ঘোষ একমাত্র সন্তান মিথ এবং স্ত্রী মিথুন বিশ্বাসকে রেখে গেছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: