সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কোহলির নতুন বিশ্বরেকর্ড সুর নরম করে ট্রাম্প বললেন, চুক্তিতে তাড়াহুড়ো নয় বরিশালে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পরিবারের স্বপ্ন পুরে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি উজিরপুরে শিশুদের স্বপ্নচিত্র অঙ্কন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উৎসাহমূলক উপহার বিতরণে- এমপি পরিবহন গুলোকে নিয়ম মেনে রাস্তায় চললে নিরাপদে ঈদ যাত্রা সার্থক হবে – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জেলা পর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ ইতনা গণহত্যার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে লোহাগড়ায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সরকারের জনসচেতনতামূলক প্রচারকৌশল: বিদ্যমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় – মো. মামুন অর রশিদ

রাষ্ট্র কেবল শাসনের কাঠামো নয়; এটি সরকার ও জনগণের মধ্যে এক অবিরাম যোগাযোগপ্রক্রিয়া। এই যোগাযোগ যত বেশি স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও সময়োপযোগী হয়, রাষ্ট্র পরিচালনাও তত বেশি কার্যকর হয়। জনসচেতনতামূলক প্রচার এই যোগাযোগেরই প্রধান বাহন। কার্যকর জনসচেতনতামূলক প্রচার ছাড়া সরকারের উন্নয়নচিন্তা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায় না, নীতির ভাষা মানুষের জীবনের ভাষায় অনুবাদ হয় না, আর অর্জনের গল্পও জনমতের পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে না।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রচার মানে কেবল প্রশংসা বা সাফল্যের গল্প নয়; প্রচার মানে তথ্যের সঠিক পরিবেশন, নীতির ব্যাখ্যা, জনমত-অনুধাবন, গুজব প্রতিরোধ এবং জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। কারণ, সরকার কী করছে, কেন করছে, তার সুফল কী, চ্যালেঞ্জ কোথায়—এসব বিষয় জনগণের সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয়ের ওপরই বর্তায়। এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানসমূহ হলো : তথ্য অধিদফতর,  গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মিলেই গড়ে উঠেছে সরকারের প্রচারযন্ত্রের মূল কাঠামো। তবে এই কাঠামোর শক্তি যেমন আছে, তেমনি আছে সীমাবদ্ধতাও।

মাঠপর্যায়ে সরকারের একমাত্র প্রচারধর্মী প্রতিষ্ঠান হলো গণযোগাযোগ অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিসসমূহ মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারকার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ বিভিন্ন প্রচারকৌশল যেমন : প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা, নারী সমাবেশ, কমিউনিটি সভা, সড়কপ্রচার প্রভৃতির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন-সংক্রান্ত তথ্য ও সরকারের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিসসমূহ ব্যাপক প্রচারকার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। বিভিন্ন প্রচারকার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসসমূহ সরকারের বাস্তবায়িত কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়া, প্রত্যাশা ও মনোভাব সরকারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এভাবে জেলা তথ্য অফিসসমূহ সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।তবে উপজেলা পর্যায়ে তথ্য অফিস না থাকায় মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারকার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি, উন্নয়ন-কার্যক্রম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বার্তা অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ও কার্যকরভাবে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তথ্যপ্রবাহের এই ঘাটতি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

বিদ্যমান বাস্তবতায় উপজেলা তথ্য অফিস প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠলে সরকারের প্রচারকার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতা, জনগণের চাহিদা ও এলাকার যোগাযোগ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারকৌশল গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বর্তমান সময়ে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সরকারের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার এই যুগে একটি অসম্পূর্ণ ভিডিও, বিকৃত ছবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একদিকে যেমন দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে গুজব, অপতথ্য ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের জন্য অত্যন্ত উর্বর ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করছে। এই বাস্তবতায় সরকারের প্রচারকৌশলকে কেবল অনুষ্ঠাননির্ভর ও দপ্তরকেন্দ্রিক রাখলে চলবে না। সরকারের প্রচারকৌশল হতে হবে দ্রুত, সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিসম্পন্ন ও বহুমাত্রিক। গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট, সক্রিয় ও দায়বদ্ধ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কেবল ব্যাখ্যা বা বিবৃতি প্রদান যথেষ্ট নয়; বরং আগে থেকেই এমন একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজপ্রাপ্য সরকারি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হলে প্রথমেই সত্য জানার জন্য সরকারি উৎসের ওপর আস্থা রাখে।

এখানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক জনসংযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা জরুরি। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন জনসংযোগ কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করতে হয়। জনসংযোগ কর্মকর্তা একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রেসসংক্রান্ত দায়িত্বও পালন করেন। একজন কর্মকর্তার পক্ষে একদিকে দাপ্তরিক প্রচার, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম সমন্বয়, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি—সবকিছু দক্ষতার সঙ্গে সামলানো বেশ কঠিন। তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জনসংযোগ শাখা গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। এই শাখায় কমপক্ষে তিনজন কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়ে একটি টিম থাকলে প্রচার-পরিকল্পনা, কনটেন্ট নির্মাণ, মিডিয়া সমন্বয়, জনমত বিশ্লেষণ এবং গুজব মোকাবিলা—সকল কাজকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সরকারের নির্ভরযোগ্য প্রচারমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে। দর্শক-শ্রোতার তথ্য গ্রহণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির প্রচারের বার্তা ও কৌশলে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। আজকের তরুণরা শুধু টেলিভিশন দেখে না, তারা মোবাইল ও কম্পিউটারে বেশি সময় কাটায়। তাই বেতার ও টেলিভিশনের বার্তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছাতে হবে। বার্তাকে রিল, ইনফোগ্রাফ, ব্যাখ্যামূলক কনটেন্ট, লাইভ আলোচনা প্রভৃতি উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারের প্রচার ও প্রচার-সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হলো তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)। দেশের তথ্যসম্পদ উন্নয়ন, তথ্য সংরক্ষণ এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ উৎস হিসেবে তথ্য অধিদফতর জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি সংবাদ ও আলোকচিত্র প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য সরবরাহ করে থাকে। সরকারের নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্ত-সংবলিত বিভিন্ন তথ্য এ অধিদফতরের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। তথ্যবিবরণী, প্রেস নোট, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, আলোকচিত্র, প্রবন্ধ, ফিচার প্রভৃতির মাধ্যমে তথ্য অধিদফতর সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ আর্থসামাজিক বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমের সহযোগিতায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়াও প্রেস ট্রেন্ড ও প্রেস ক্লিপিংয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধেও তথ্য অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আইকনোটেক্সট ও ভিডিও প্রকাশ করছে। তবে গুজব ও অপপ্রচারের ক্রমবর্ধমান বিস্তার বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তথ্য অধিদফতরে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোবদ্ধ প্রকল্প গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) প্রচার কাজে সরকারের একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। এ অধিদপ্তর সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, আর্থসামাজিক বিষয় ও জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, ডকুড্রামা, টিভি ফিলা প্রভৃতি নির্মাণ করে এবং বিভিন্ন নিয়মিত ও বিশেষ প্রকাশনা তৈরি ও বিতরণ করে। মাঠপর্যায়ে জেলা তথ্য অফিসসমূহের মাধ্যমে ডিএফপি-নির্মিত চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, ডকুড্রামা, টিভি ফিলা প্রভৃতি প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে এসব ভিডিও কনটেন্ট সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনেও প্রচার করা হয়। এছাড়া, জেলা তথ্য অফিসসমূহের মাধ্যমে ডিএফপির দুটি প্রকাশনা (‘সচিত্র বাংলাদেশ’ ও ‘নবারুণ’) মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও  সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ডিএফপির অন্যান্য প্রকাশনাও স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও আর্থসামাজিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সংবাদ উৎস হলো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। জাতীয় বার্তা সংস্থা হিসেবে বাসস দেশ-বিদেশের সংবাদ সংগ্রহ করে তা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পাদনা করে কম্পিউটারাইজড নিউজ নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ফ্যাক্স ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রসমূহের নিকট ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় পরিবেশন করে। বাসস দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংবাদদাতাদের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন-কর্মকাণ্ডের সংবাদসহ সকল ধরনের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করে থাকে। বাসসকে আরও কার্যকর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে শুধু দেশের অভ্যন্তরে প্রচারকার্যক্রম পরিচালনা করলে চলবে না, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে। এজন্য বিশ্বের মানুষকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও অর্জনের সঠিক চিত্র জানানো প্রয়োজন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসসমূহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে কাজ করছে। বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে বহিঃপ্রচার অনুবিভাগকে পৃথক অধিদপ্তরে রূপান্তর করা যেতে পারে। এতে দেশের বহিঃপ্রচার কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।  সবশেষে একটি মৌলিক সত্য মনে রাখা প্রয়োজন—উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের নাম নয়; উন্নয়ন হলো দেশের জনগণের সার্বিক কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রতিফলন। জনগণের সমর্থন ও সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না। মানুষ যদি সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা না রাখে তাহলে সেই কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হবে। দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় সরকারের জনসচেতনতামূলক প্রচারকৌশলকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। জেলা তথ্য অফিসের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে উপজেলা তথ্য অফিস প্রতিষ্ঠা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক জনসংযোগ শাখা গঠন, দপ্তরভিত্তিক গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ সেল প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম তদারকি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার, বেতার ও বিটিভির আধুনিকীকরণ, বহিঃপ্রচারকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালীকরণ প্রভৃতি উদ্যোগ হতে পারে সরকারের প্রচারনীতির মূল উপাদান।

রাষ্ট্রের কণ্ঠ যদি জনগণের কাছে পৌঁছাতে চায়, তবে তাকে শুধু উচ্চকণ্ঠ হলেই চলবে না; হতে হবে প্রাঞ্জল ও বিশ্বাসযোগ্য। প্রচারের আসল সাফল্য শব্দের উচ্চতায় নয়, বরং মানুষের গ্রহণযোগ্যতায়।

লেখক: বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সদস্য এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে কর্মরত।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: