শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
উপজেলা প্রতিনিধি, বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অফিসে যাতায়াতে চরম অনিয়ম, সহকর্মীদের কটূক্তি এবং জনপ্রতিনিধিকে হুমকির অকাট্য অভিযোগ উঠিয়াছে। সম্প্রতি নগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (কাউন্সিলর) আব্দুল মান্নানের সহিত উক্ত কর্মকর্তার প্রকাশ্যে অশালীন আচরণের ঘটনা ঘটার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হইয়াছে। তবে ঘটনার এতদিন পার হইলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ হইতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি করা হয় নাই।
জানা গিয়াছে, বিষয়টি লইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে ডাকিয়া তাঁহার কার্যালয়ে বসিয়াছিলেন। তবে ভুক্তভোগী কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান অভিযোগ করিয়া জানান, উক্ত বৈঠকে শুধু কথাবর্তাই হইয়াছে, তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট বিচার পান নাই।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, একটি অবৈধ তালিকায় স্বাক্ষর করিবার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম তাঁহাকে চাপ দেন। তিনি এবং সংশ্লিষ্ট নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃসাহেব উক্ত অবৈধ কাগজে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকৃতি জানাইলে কর্মকর্তা রেজাউল করিম চরম উত্তেজিত হইয়া পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আব্দুল মান্নানকে ‘তুই বের হয়ে যা, তোকে দেখিয়া নেওয়া হইবে’ বলিয়া হুমকি প্রদান করেন এবং ‘আমি নাটোরের স্থানীয় ছেলে’ বলিয়া জনৈক নেতার নাম ব্যবহার করিয়া ক্যাডারি কায়দায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।এমনকি দাপ্তরিক কাজ অফিসের অভ্যন্তরে না করিয়া, বহিরাঙ্গনে জনসাধারণের বিশ্রামের স্থানে গোপনে কেন জনপ্রতিনিধির সাথে আলোচনা করা হইল—এই বিষয়ে উক্ত কর্মকর্তা সম্পূর্ণ নিশ্চুপ রহিয়াছেন।
এদিকে, নিয়মিত দেরিতে অফিসে আগমন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সময় কর্মচারীদের আটক রাখিবার বিষয়টি উক্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম স্বীকার করিয়াছেন। আসন্ন জুন মাসের কাজের চাপের অজুহাতে তিনি এই অনিয়ম করিয়াছেন বলিয়া দাবি করেন। তবে দুর্ব্যবহারের অভিযোগটিকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়া তিনি পাল্টা দাবি করেন, ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানই তাঁহাকে ভুয়া তালিকায় স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিয়াছিলেন। এছাড়া সহকর্মীদের কুরুচিপূর্ণ ও তাচ্ছিল্যসূচক মন্তব্য করিবার অভিযোগও তাঁহার বিরুদ্ধে রহিয়াছে।
সরকারি দফতরে বসিয়া এমন রাজনৈতিক প্রভাব, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ইউএনও-র কার্যালয়ে বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ আরও বাড়িয়াছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উক্ত দুর্নীতিপরায়ণ অভিযোগ থাকা কর্মকর্তা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।