বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ইরান যুদ্ধের জেরে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা ১৪ বছর পর রিয়ালের বিপক্ষে জয় পেল বায়ার্ন যুদ্ধবিরতির পর তেহরানে বিশাল সমাবেশ সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় লেখক ও রাজনৈতিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে জয়দেবপুর বাজার ও টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তি পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক নড়াইলের লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর কবর থেকে মুকুলের মরদেহ উত্তোলন ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা শেষ হতে পারে’: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এক যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বহু স্বপ্নের সমাধি হলো মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে

নিজস্ব প্রতিনিধি : মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। যদি স্বপ্ন না থাকতো তাহলে মানুষ বাঁচতো না। যেদিন পিতা -মাতা হয়ে সেদিন নিজের স্বপ্ন মরে যায় অনেকটাই। তখন স্বপ্ন শুধু সন্তানদের নিয়ে। সেই সন্তানদের স্বপ্ন যখন সমাধি হয় তখন আর বেঁচে থাকেনা। যদিও বেঁচে থাকে সেটা জ্যান্ত মরার মতো।

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তে বহু স্বপ্নের সমাধি হয়েছে। ঐদিন থেকে শুর করে ২৫ জুলাই পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭১ জন। তবে এদের মধ্যে গুরতর আহত ৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক। মৃত ৩১ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক ও চর্তুথ শ্রেনীর কর্মীচারী রয়েছে।

এই কোমলমতি শিশুদের স্বপ্ন ছিল একদিন বড় হয়ে আলোকিত মানুষ হবে। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাবে। দেশের সেবা করবে। কেউ ইন্জিনিয়ারি, কেউ ডাক্তার একেক জনের একেক স্বপ্ন। স্বপ্ন কি শুধু তারাই দেখেছিল? দেখেছিল বাবা-মা, শিক্ষক ও স্বজনরা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ভালো স্কুলে ( মাইলস্টোনে) ভর্তি করেছিল অভিভাবকরা।
বাগানের সব ফুল মালা হতে পারেনা, কিছু ফুল অজরে ঝরে যায়, ঠিক তেমনি মাইলস্টোন ট্রাজেডিতেও হয়েছে। যারা নিহত হয়েছে তাদের যে স্বপ্ন ছিল তা আর পূরন হবে না কোনদিন।

মৃত্যুর সাথে যারা পাঞ্জা লড়ছে তাদেরও কোন নিশ্চিয়তা নেই। আহতদের মধ্যে অনেকই অঙ্গ হারিয়েছে। অনেকই হয়তো বাঁচবে কিন্তু সাধারণআল জীবন-জকাপন করতে আর পাবে না।

মাইলস্টোন কলেজের প্রফেসার মো.আবু ইউসুফ নিজের সন্তান হারিয়ে কেঁদে কেঁদে বলেছেন, আমার ছেলে মেধাবী ছিল, ক্লাসের সবার চেয়ে ভালো ছিল। আমরা তাকে আদর করে আইনস্টাইন বলতাম। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধুলিসাৎ হয়ে গেল।এদেশ নিরাপদ নয়, আমরা আর এদেশে থবো্াহর না।
শুধু আবু ইউসুফ নয়, সন্তান হারা প্রত্যেক বাবা-মার কথা ছিল এরকমই। বুকের মানিক হারিয়ে পাগল প্রায় পিতা-মাতারা। এই শিক্ষার্থীরা শুধু আমাদের সন্তান না, দেশের সম্পদ ছিল।

নিহত রাইসা মনির মা বলেন, আমার বিয়ের পর সন্তান হচ্ছিলনা। আল্লাহর কাছে নামাজ রোজা করে, কান্নাকাটি করে বলছিলাম আল্লাহ, আমার ঘরে একটা সন্তান দাও? আমাকে মা বলে ডাকবে। আল্লাহ আমার ডাক কবুল করে ৯ বছর পর রাইসা মনির জন্ম হয়। ঘটনার দিন রাইসা স্কুলে যাওয়ার সময় লিপ্টের কাছে ৩ বার আমার দিকে তাকিয়ে গেছে। আর কোনদিন আসবে না। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিভাবে পূর্ণ হবে সেই স্বপ্ন। কেউ কি বলতে পারো?
এমননি স্বপ্নের বীজ বুনছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকরা। সকলেরই বহু স্বপ্ন ছিল, কিভাবে পূর্ণ হবে সেই স্বপ্ন? এই প্রশ্নের নেই কোন উত্তর। নেই সান্ত্বনা দেওয়ার কোন ভাষা।

তবে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো এতোটুকই বলা যায়, ওরা নিষ্পাপ, ওরা শহীদ। ওরা জান্তাতি পাখি,ওরা ভালো আছে, ভালো থাকবে।
উল্লেখ্য গত ২১ জুলাই সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণরত যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: