শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
সমাজের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই – বক্তারা বলেন।
আজ ১০ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার, বিকাল ৪টায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর আহ্বায়ক, আজীবন বিপ্লবী, বীর মুক্তিযুদ্ধা কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর জহুর হোসেন চৌধরী হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, অর্থনীতিবিদ, লেখক, জাতীয় সম্পদ আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ ইকরাম হোসেন রুমেল প্রমূখ।
সভা পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন।
বক্তাগণ বলেন, কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক আজীবন লড়াই করেছে বৈষম্যমুক্ত সামাজিক মালিকানা সমাজ-রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আজও দেশে সেই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। বরং উল্টো ধনীক শ্রেণীর বৈষম্যমূলক, ফ্যাসিস্ট, লুটপাটের দূর্নীতিগ্রস্থ দেশ গড়ে উঠেছে। যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই দেশটাকে তাদের বাপ দাদার জমিদারি মনে করে লুটপাটের রাম রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। হাসিনার ফ্যাসিবাদকে বিতারিত করে অভ্যুত্থানে ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাছে দেশবাসী আশা করেছিলো দূর্নীতিমুক্ত একটা দেশ পাবে। সেই আশা ইতিমধ্যে নিরাশা করে ইউনুস সরকার দেশের বন্দরসহ দেশ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আজ সাম্রাজ্যবাদীরা সমুদ্র অঞ্চল দখলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে চাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর মতো বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি এটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং জাতীয় সম্পদের উপর সরাসরি আঘাত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ এক গভীর ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি অপশক্তি, মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ও ক্ষমতালোভী মহল এক ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে। উদ্দেশ্য একটাই—জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে, পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় কুক্ষিগত করা।
এই পরিস্থিতিতে বামপন্থীদের মধ্যে বিভাজন নয়, দরকার ঐক্য। দরকার একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, শক্তিশালী বামফ্রন্ট। এই শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এই গণতান্ত্রিক বামফ্রন্ট।