বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
পানি, চা এবং কফি— এই তিন তরল নিয়মিত ও সঠিক পরিমাণে পান করলে শরীর ও মন উভয়ই প্রাণবন্ত থাকে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান- দেখা গেছে, দিনে সাত থেকে আট কাপ তরল গ্রহণ করলে সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম থাকে।
“স্মার্ট হাইড্রেইশন’ বলতে বোঝানো হয় পানি, চা এবং কফির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য।
পানি শরীরের প্রাথমিক আর্দ্রতার চাহিদা মেটায়। তবে চা ও কফি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী যৌগ সরবরাহ করে, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দেয়।
চা’তে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ ও ‘ফ্লাভানল্স’ কোষের বয়স কমাতে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। কফিতে থাকা ‘ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড’ মেটাবলিজম বা বিপাক ঠিক রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।
গবেষণার পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে সাত থেকে আট কাপ তরল গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে দুই অংশ কফি, তিন অংশ চা এবং বাকি অংশ পানি হতে পারে।
“অর্থাৎ সকালে এক কাপ কফি, দুপুরে ও বিকেলে চা এবং সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি— এই সরল রুটিনই দীর্ঘজীবনের একটি নিঃশব্দ সহায়ক। এই মিশ্রণ একঘেয়ে ‘আট গ্লাস পানি’ নিয়মের চেয়ে শরীরকে আর্দ্র রাখতে আরও কার্যকর করে”- বলেন ডা. নয়ন।
এই তিন পানীয় একত্রে মস্তিষ্ক, হজমতন্ত্র এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কফি ও চা শরীরের প্রদাহ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
পানির সঙ্গে মিশে এগুলো কোষে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায়। ফলে সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।
তবে কয়েকটি সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চিনি ছাড়া কফি ও চা পান করা উচিত। দুধ ব্যবহার করলে হালকা রাখতে হবে যেন পানীয় ভারী না হয়।
রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ক্যাফিইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
এই সরল বিন্যাসই হতে পারে সুস্থ, দীর্ঘ ও দীপ্ত জীবনের চাবিকাঠি।