মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
উপজেলা প্রতিনিধি, কুলাউড়া: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও মিটার রিডিং গ্রহণে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মিটার না দেখেই কাল্পনিক বা অতিরিক্ত রিডিং যুক্ত করে বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এই অসঙ্গতি মাঠপর্যায়ের মিটার রিডারের মাধ্যমে নাকি সাব-জোনাল অফিসে ডাটা এন্ট্রির সময় ঘটছে—তা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার একই বাড়ির দুটি পৃথক বিদ্যুৎ সংযোগে (গ্রাহক মো. নুরুল ইসলাম, হিসাব নম্বর: ১০০৬০৬৪০৮৩৫৯০ এবং মো. সিরাজুল ইসলাম, হিসাব নম্বর: ১০০৬০৬৪০৮৩৩৮৫) গত ১৭ জুলাই ইস্যুকৃত বিদ্যুৎ বিলে যথাক্রমে ৩১৪০ ও ৪৯৮৫ রিডিং দেখানো হয়। ওই রিডিংয়ের ভিত্তিতে দুটি সংযোগে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করে বিল নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু বিল ইস্যুর ১৮ দিন পর, ৪ আগস্ট সরেজমিনে মিটারের ডিসপ্লে যাচাই করে দেখা যায়, বর্তমান রিডিং যথাক্রমে ৩১৫৪ ও ৪৯৯২। অর্থাৎ, এই ১৮ দিনে দুটি মিটার মিলিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ২১ ইউনিট। এ ঘটনায় গ্রাহকদের প্রশ্ন, যদি ১৭ জুলাই প্রকৃত মিটার দেখে রিডিং নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী ১৮ দিনে মোট ব্যবহার মাত্র ২১ ইউনিট হলো কীভাবে? তাদের দাবি, বিলে উল্লেখিত রিডিং প্রকৃত রিডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রিডিং দেখানোর ফলে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রথম ধাপের (০–৭৫ ইউনিট, প্রতি ইউনিট ৫.২৬ টাকা) পরিবর্তে দ্বিতীয় ধাপের (৭৬–২০০ ইউনিট, প্রতি ইউনিট ৮.৫০ টাকা) উচ্চ হারে চলে গেছে। ফলে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ৩.২৪ টাকা করে গুনতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সচেতন গ্রাহকরা জানান, অসঙ্গতিটি মাঠপর্যায়ে মিটার রিডিংয়ের সময় হয়েছে, নাকি অফিসে কম্পিউটার ডাটা এন্ট্রির সময়—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে যে পর্যায়েই ভুল হয়ে থাকুক, এর চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মাঠপর্যায়ের মিটার রিডিং শিট এবং অফিসে সংরক্ষিত ডাটা মিলিয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল পুনঃসংশোধন (Re-billing) এবং অতিরিক্ত ধার্য করা বিল সমন্বয়ের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।