বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সাতক্ষীরায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল ২০২৬ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ধনবাড়ী-বাজিতপুর সড়ক গিলে খাচ্ছে পুকুরে,জন-দুভোর্গ চরমে! নড়াইলের লোহাগড়া এম কে মিতালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াকে ফেনীতে সংবর্ধনা কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে ইরানের হামলা, নিহত ১ ‘শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না’, বিএনপিকে নাহিদ ইসলামের আহ্বান সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা মুন্সীগঞ্জে সনাকের সাথে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সভা সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন নড়াইলের লোহাগড়ায় নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদান

পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, দিশেহারা বাঘার কৃষকেরা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। এতে প্রায় ৬০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বহু বাড়িঘর। ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা এখন কাঁচা ধান গরুর খাবার হিসেবে কেটে নিচ্ছেন।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে এখন শুধু পানি আর পানি। দূরে দেখা গেল গলাপানিতে নেমে দুই নারী-পুরুষ কাঁচা ধান কাটছেন। তাঁরা হলেন চায়না বেগম (৩৫) ও তাঁর স্বামী শমশের আলী (৪০)। শমশের আলী জানান, ২৫ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে পাঁচ বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছিলেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘কাঁচা ধান গরুর জন্য কেটে নিচ্ছি। এবার আমরা কী খেয়ে বাঁচব, সেই চিন্তায় মরে যাচ্ছি।’

নীচ পলাশী ফতেপুর মাঠে সবচেয়ে বেশি ফসলহানি হয়েছে। যাঁদের ধান কিছুটা পেকেছে, তাঁরা সেটা কাটতে গিয়ে শ্রমিকের সংকটে পড়েছেন। এখন একজন শ্রমিক এক বেলা ধান কাটার জন্য নিচ্ছেন ৮০০ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিবর শিকদার ১০ বিঘা পেঁপে বাগান করেছিলেন, যা এখন কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে। বাগানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। সবকিছু দিয়ে এই বাগান করেছিলাম।’

ইউনিয়নের পলাশী ফতেপুর, কালিদাসখালী, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া এবং দিয়াড়কাদিরপুরের প্রায় ৬০০ বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ৫০টি পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘উপজেলার ৭৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান, প্রাথমিকভাবে ২২০টি পরিবার পানিবন্দী হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) তাঁদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। পরে বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: