রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বৈধ বালু মহাল না থাকায় নির্মাণ কাজ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারসহ ব্যক্তি বিশেষ। ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর বালু মহল থেকে বালু না পেয়ে প্রয়োজনের তাগিদে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বালু এনে নির্মাণ কাজ করতে হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি ব্যয়ের বোঝা টানতে হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক দপ্তরের প্রকাশিত বালু মহাল ইজারা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার বালু মহালের সরকারি ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৬২৮ টাকা। কিন্তু ইজারা গ্রহণকারী সময় মতো ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় সেই ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর আর ফুলবাড়ীর কোনো বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। উপজেলায় বৈধ কোনো বালু মহাল না থাকায় বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগও নেই।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে ফুলবাড়ী ছোট যমুনা নদীর দুইটি সরকারি বালু মহাল থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কয়েক বছর আগে বালু মহাল দুইটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে বালু পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় সরকারি-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সড়ক, ভবন, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ বালুর প্রয়োজন হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বালু সংগ্রহ করতে না পেরে দিনাজপুরের পাঁচবাড়ী, মোহনপুর, চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্যে বালু সংগ্রহ করে নির্মাণ কাজ করতে হচ্ছে। এতে করে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে করে ব্যক্তি বিশেষের নির্মাণ কাজে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু এনে উপজেলা পুিরষদ সড়কের কাটিয়ার ধর, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন নতুন সেতুর পার্শ্বে, চাঁদপাড়া মাদ্রাসার পার্শ্বে, ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের পূর্ব পার্শ্বে মজুদ করে বিক্রি করছেন। এসব বালু মজুদ করতে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত এসব বালুর দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ বেশি।বালুর দাম বৃদ্ধি পাওয়াসহ বালু সংকটের সুযোগে স্থানীয় এক শ্রেণির সংঘবদ্ধ ব্যক্তি উপজেলার ছোট যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে গোপনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গভীর রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ট্রাক্টর, ট্রলিসহ ছোট যানবাহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদীর বালু উত্তোলন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
নির্মাণকাজের বালু ক্রেতা রহমত আলী ও লোকমান হোসেন বলেন, আগে নির্মাণ কাজ করতে গেলে ফুলবাড়ীর বালু নিয়ে কাজ করা হতো। তখন এক ট্রলির বালুর দাম ছিল প্রকার ভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এখন অন্য জায়গা থেকে বালু আনতে খরচ পড়ে যাচ্ছে প্রকার ভেদে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। আগের মতো ফুলবাড়ীর বালু মহাল দুইটি চালু করে ইজারার মাধ্যমে বালু সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলে নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরা তুলনামূলক অনেক কম দামে বালু সংগ্রহ ও নির্মাণ কাজ করতে পারবেন। এতে সরকারেরও বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় হতো।
স্থানীয়রা বলছেন, ফুলবাড়ীর বালু মহাল দুইটি চালু করে সরকারি ইজারার মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরা বালু সংগ্রহ নিয়ে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতেন, অন্যদিকে তেমনি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী দুর্বৃত্তদের অবৈধ অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যেতো। একই সাথে বালুর দামও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলায় কোনো সরকারি বালু মহাল নেই এবং বালু মহাল হওয়ার তেমন কোনো সুযোগও নেই। কারণ বালু মহালের নীতিমালা অনুযায়ী নদীর যে স্থানে বালু মহাল করা হয় সেখানে স্রোতধারা থাকতে হবে। আবার ওই স্থানের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভৌগলিক জরিপ দরকার এবং ওই স্থানটি সরকারি রেকর্ড ভূক্ত জায়গা হতে হবে। এসব কারণে ফুলবাড়ীতে নতুন করে বালু মহাল করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ফুলবাড়ীর ছোট যমুন নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে এবং এতে জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।