মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
উপজেলা প্রতিনিধি, বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভা এলাকায় একটি কথিত অবৈধ প্লাস্টিক কারখানার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারখানাটির বৈধতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত একটি প্লাস্টিক কারখানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিক কারখানার অংশীদার ও পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শরীফের কাছে কারখানার বৈধতা বিষয়ে জানতে চান। এ সময় শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরে শরীফ, তার শ্যালক সাকিব এবং কয়েকজন কর্মচারী মিলে তাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করেন। তিনি জানান, পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র তার গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বনপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও আসন্ন পৌর মেয়র পদপ্রার্থী মাহমুদুল হাসান মেমন। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি হামলা প্রতিরোধ না করে বরং অভিযুক্তদের পক্ষ নেন এবং পরে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে তার চাকরির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ কারখানাগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে ভিডিওসহ অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে। ইউএনও বলেন, অপরাধী যেই হোক—সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক ব্যক্তি—উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য ক্ষতিকর কোনো অবৈধ কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।