সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চৌদ্দগ্রাম শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: দ্রুত শুরু হচ্ছে জরুরি কাজ – পানিসম্পদ মন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন – খায়ের ভূঁইয়া নড়াইলে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন গাজীপুরে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম: সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে মেঘনা ভাঙনে হুমকিতে উপকূল, জরুরি ভাঙ্গন প্রতিরোধের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর বেহেশতের কার্ড কিনলে ঠকে যেতেন নগদে : এমপি আবুল খায়ের “মুন্সীগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার” ভারতে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন মেহেরপুরে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ভিডিও ভাইরাল

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প – আইসক্রিমওয়ালার ঘণ্টা

প্রতিদিন বিকেল হলেই পাড়ায় একটি পরিচিত মিষ্টি আওয়াজ শোনা যেত। টিং টিং করে বাজতে থাকা সেই ঘণ্টার শব্দ শুনলেই সবাই বুঝে যেত, আইসক্রিমওয়ালা এসেছে। বড় বড় বাড়ির সামনে ঠেলাগাড়ি থামত, আর অনেক বাচ্চা আনন্দে ছুটে আসত আইসক্রিম কিনতে। রঙিন কাগজে মোড়া আইসক্রিম, ঠান্ডা আর মিষ্টি, সবাই খুশি হয়ে খেত। পাড়াটা তখন হাসি আর কথায় ভরে উঠত।

এই বড় বাড়িগুলোর মাঝেই ছিল একেবারে ছোট একটি ঘর। সেই ঘরে থাকত এক মা আর তার ছোট ছেলে। তাদের জীবন ছিল খুব সাধারণ। মা কষ্ট করে সংসার চালাতেন। অনেক সময় নিজের খাওয়াও ঠিকমতো হতো না। আইসক্রিম, খেলনা বা নতুন জামা, এসব তাদের জীবনে খুব কমই আসত। তবুও মা ছেলেটাকে আগলে রাখতেন যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে।

ছোট ছেলেটার খুব ইচ্ছে হতো আইসক্রিম খেতে। প্রতিদিন বিকেলে সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। দূর থেকে তাকিয়ে দেখত আইসক্রিমওয়ালাকে, দেখত অন্য বাচ্চাদের খুশির মুখ। তার চোখে তখন স্বপ্ন আর ইচ্ছার ঝিলিক দেখা যেত। কিন্তু সে জানত, মায়ের কাছে অত টাকা নেই। তাই সে কখনো বাইরে যেত না, কিছু চাইত না। শুধু চুপচাপ জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকত।

আইসক্রিমওয়ালাটি একদিন বিষয়টা খেয়াল করলেন। প্রতিদিন আসেন, প্রতিদিনই দেখেন, ছোট ছেলেটা জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু কখনো কাছে আসে না। তার চোখে যে কতটা ইচ্ছে আর অপেক্ষা, সেটা আইসক্রিমওয়ালার চোখ এড়ায়নি। সেদিন তিনি আর নিজেকে থামাতে পারলেন না। ঠেলাগাড়ি থামিয়ে ধীরে ধীরে জানালার কাছে এগিয়ে গেলেন।

তিনি খুব মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করলেন, ছোট ছেলেটা রোজ কেন শুধু তাকিয়ে থাকে, কেন আইসক্রিম কিনতে আসে না। ছেলেটা প্রথমে একটু লজ্জা পেল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, তার আইসক্রিম খুব ভালো লাগে, কিন্তু তাদের কাছে টাকা নেই। তাই সে শুধু দূর থেকে দেখে। এই কথা শুনে আইসক্রিমওয়ালার মনটা কেমন করে উঠল। তার চোখ ভিজে গেল, বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে এল।

আইসক্রিমওয়ালাটি হাসিমুখে বললেন, আজ থেকে যেদিন ইচ্ছে ছোট ছেলেটা আইসক্রিম খেতে পারবে। এর জন্য কোনো টাকা লাগবে না। ছোট ছেলেটা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারল না। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তারপর তার মুখে ফুটে উঠল এক আনন্দের সুন্দর উজ্জ্বল হাসি। সেই হাসিটা যেন চারপাশ আলোকিত করে দিল।

সেদিন থেকে ছোট ছেলেটা শুধু আইসক্রিমের স্বাদই পেল না, পেল ভালোবাসার স্বাদও। আর আইসক্রিমওয়ালার পেলো এক গভীর মানসিক শান্তি। তিনি বুঝলেন, একটু দয়া আর ভালোবাসা কারও জীবনে কত বড় সুখ এনে দিতে পারে। আসলে, টাকা না থাকলেও মানুষের মন বড় হতে পারে। ভালো মানুষ হওয়াই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়।

এই ছোট্ট গল্পটা আমাদের শেখায় “ভালোবাসা কখনও দামে মাপা যায় না”।
সামান্য একটু ভালোবাসা, একটু বিনামূল্যের হাসি, হয়তো কারও জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার হয়ে উঠতে পারে।
মনুষ্যত্বই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: