শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
আবদুল মান্নান, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ (মুহুরী) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সংকটের কারণে দলিল রেজিস্ট্রির ৭-৮ বছর পরও অনেক সেবাগ্রহীতা মূল দলিল হাতে পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রি দলিলের সার্টিফায়েড কপি বা নকল সংগ্রহ করতেও ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অফিসে অন্তত ৪০-৫০ জন নকলনবীশ থাকার কথা থাকলেও কাগজে-কলমে রয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে চারজন পদোন্নতি পাওয়ায় বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন। দীর্ঘদিন নতুন নকলনবীশ নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
নকলনবীশ সংকটের কারণে বর্তমানে অফিসটিতে ২০১৭ সালের ৫ হাজার নম্বর দলিল পর্যন্ত বালাম তল্লাশের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে ২০১৭ সালের ৫ হাজার নম্বরের পর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রেজিস্ট্রি হওয়া অনেক দলিলের মূলকপি সেবাগ্রহীতারা সংগ্রহ করতে পারছেন না।
এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ের নির্দায়ী সনদপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করতে না পারায় ঋণ পেতেও নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই উপজেলার গুনবতী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও নকলনবীশ সংকট রয়েছে। সেখানে ১০-১২ জন নকলনবীশ থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ওই অফিসে বর্তমানে ২০১৯ সালের ১ হাজার ৫০০ নম্বর দলিল পর্যন্ত বালাম তল্লাশের কাজ চলমান রয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবাগ্রহীতা আব্দুল হক বলেন, ‘২০১৮ সালের শুরুতে এ অফিসে একটি সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রি করি। কিন্তু এখনো মূল দলিল পাইনি।’
আরেক সেবাগ্রহীতা রফিউদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালের শেষের দিকে দলিল রেজিস্ট্রি করি। এত বছর দলিলের রসিদ সংরক্ষণে রাখতে পারিনি। এখন রসিদ ছাড়া মূল দলিল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অফিসের অনেক নকলনবীশ বালাম লিখতে আগ্রহী নন। নগদ অর্থের আশায় তারা দলিলের নকল লেখার কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে যেখানে এক-দুই বছরের মধ্যে মূল দলিল পাওয়ার কথা, সেখানে সাধারণ মানুষকে ৮-৯ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে দলিল লেখকদেরও সেবাগ্রহীতাদের নানা প্রশ্ন ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ শাহিন বলেন, ২০১৬ সাল থেকে চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ করা হলে দীর্ঘদিনের এ জটিলতা অনেকটাই দূর হবে।
চৌদ্দগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার মামুনুল ইসলাম বলেন, নকলনবীশ সংকট শুধু চৌদ্দগ্রামে নয়, সারাদেশেই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ দেওয়া হলে এ সংকটের সমাধান হবে।