শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পটুয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর জন্মদিন পালিত লাঠির সঙ্গে পতাকা নিয়ে এলে খবর আছে: বিএনপিকে কাদের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ দুমকিতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভা সুন্দরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী পালিত বাধ্য না হলে র‌্যাব গুলি ছোড়ে না: বিদায়ী ডিজি ময়মনসিংহের ভালুকায় সুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি কল ড্রপ হলেই ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহক সাকিব-মোস্তাফিজ-সোহানের পর দল পেলেন তাসকিন

বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সব চেয়ে ছোট মসজিদ

বাংলাদেশ তথা এই উপমহাদের সব চেয়ে ছোট ও প্রাচিন একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। মসজিদটি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স সংলগ্ন দীঘীর পূর্ব দক্ষিন কর্নারে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। যদিও সংস্কারের অভাবে উহার অস্থিত্ব প্রায় বিলীন হবার পথে। পোড়া মাটি ও সুরকির আস্থরন ক্ষয়ে ক্ষয়ে পরছে। কথিত আছে যে মোগল আমলে নির্মিত এই মসজিদটি তখনকার এই এলাকার একজন প্রভা্‌বশালী হিন্দু জমিদার তার একজন মুসলিম কর্মচারির প্রার্থনার জন্য নির্মান করেছিলেন। শেখ গনি আহম্মেদ নামক ঐ বিশ্বস্থ মুসলিম রাজ কর্মচারি হিন্দু জমিদারের খুবই আস্থাভাজন ছিলেন ।

মসজিদটি নির্মানশৈলী ও নির্মান সামগ্রী দেখে মনে করা হচ্ছে যে উহা মগল আমলে্ই তৈরী । মসজিটি ভিতরের অংশের ক্ষেত্রফল (৩হাত x ২হাত) এতে অনুমান করা হয় যে, মসজিদটিতে একই সাথে শুধু মাত্র একজন লোক নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদ সংলগ্ন বিশালকায় দীঘিটি তখনকার প্রজাদের পানিয় জলের চাহিদা মেটানোর জন্য খনন করা হয়েছিল এবং দীঘির চার পারে চারটি ঘাটলা নির্মান করা হলেও সংস্কারের অভাবে ও স্থানীয় ভূমি খেকদের বদনজরে পরে সবই বিলিন হয়ে গেছে। শুধুই ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে এই চারশত বাছরেরও বেশি পুরাতন ছোট এই মসজিদটি।

লোক মুখে ও ঐতিহাসিকদের মতে বিবেচনা করে অনুমান করা যাচ্ছে যে মোগল সম্রাজ্যের পতনের পর ও শেখ গনি আহম্মেদর মৃত্যুর পর মসজিদটি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। পরে এই এলাকায় বৃটিশ শাসনামলে কিছু কিছু মুসলিম পরিবার বসবাস শুরু করলে তারা এই ছোট মসজিদটির সন্ধান পায়। ঐ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা মসজিদটিকে মন্দীর বলে দাবি করেন। এক পর্যায়ে হিন্দু ও মুসলিম মামলা হয়। মামলার নিস্পত্তি করার জন্য কলকাতা থেকে জনৈক ম্যাজিস্ট্রেট এসে স্থাপনাটির নির্মান শৈলী, দরজা, জানালার অবস্থান দেখে ও স্থানীয় লোকজনদের সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে স্থাপনাটিকে মসজিদ বলে রায় দেন। সেই থেকে মুসলিমগন মসজিদটিকে ঘিরে নানা রকম ইবাদত বন্দেগী চালিয়ে আসছিলেন। বেলা ফকির নামক স্থানিয় জনৈক ব্যক্তি আমৃত্যু মসজিদটিকে দেখা শুনা করেছেন।

দুরদুরান্ত থেকে বহু ভক্তবৃন্দ মসজিদটিকে দেখার জন্য আসেন। অনেকে আবার মানত করে থাকেন। মানত করে অনেকের মন বাসতা পূর্ন হয় বলতে শুনা যায়। বর্তমানে মসজিদটি সংলগ্ন একটি জামে মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে এই ঐতিহাসিক অতিপ্রাচিন ছোট মসজিদটি সংস্কার করা না হলে, যেকোন মুহূর্তে বিলিন হয়ে যেতে পারে। তাই অতিসত্তর বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগ কতৃক মসজিদটি তালিকাভুক্ত করে উহার সংস্কার করে ইতিহাসিক এই নির্দশটি রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন বলে উজিরপুর বাসি মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি