মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন
বয়স বাড়া মানেই শুধু নতুন এক বছর যোগ হওয়া নয়। সুস্থভাবে বয়স বাড়ার অর্থ হল— সময় যতই এগোক, জীবনের গুণগত মান যেন ঠিক থাকে।
কত বছর বাঁচলেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কীভাবে বাঁচলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নার্স প্র্যাকটিশনার’, হরমোন ও দীর্ঘায়ু বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকায়েলা রবিন্স মনে করেন, সুস্থভাবে বয়স বাড়া মানে সময়ের সঙ্গে লড়াই নয়- বরং সময়কে শক্তি, সচেতনতা ও আত্মসম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা।
রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “এটি নিজের ভেতরে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রক্রিয়া।”
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টিনা ডেল তোরো বাদেসা বলছেন, “দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস ও অনুভূতি আসলে বয়স বাড়ার মান কেমন হচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।”
সুস্থভাবে বয়স বাড়া কেমন দেখায়?
ডা. ক্রিস্টিনা ডেল তোরো বাদেসার মতে, সচেতনভাবে সুস্থভাবে বয়স বাড়লে শক্তি ও মনোভাবেই সেটি ধরা পড়ে।
দৈনন্দিন কাজ উপভোগ করার মতো শারীরিক সামর্থ্য তারা রাখেন। এছাড়া নতুন কিছু শেখার কৌতূহল ধরে রাখেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী থাকেন।
সুস্থভাবে বয়স বাড়ার মানে হল- খাবার বাছাইয়ে সচেতন হওয়া, শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ায় এমন শরীরচর্চা করা। পাশাপাশি গভীর ও শান্ত ঘুম নিশ্চিত করা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
অনেকে মনে করেন, বয়স বাড়ার বিষয়টি পুরোপুরি জিনগত।
তবে ডা. বাদেসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গবেষণায় দেখা গেছে বয়স বাড়ার মাত্র এক চতুর্থাংশের মতো অংশ জিনের ওপর নির্ভর করে। বাকি বড় অংশ নির্ভর করে জীবনযাপন ও পরিবেশের ওপর।
অর্থাৎ কী খাচ্ছেন, কতটা চলাফেরা করছেন, কেমন ঘুম হচ্ছে, মানসিক চাপ কীভাবে সামলাচ্ছেন এসব বিষয়ই ঠিক করে কীভাবে নিজের বয়স বাড়ছে।
শরীরের শক্তি ও চলাচল ধরে রাখতে পারা
সুস্থভাবে বয়স বাড়ার সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণগুলোর একটি হল- শারীরিক শক্তি ও চলাচলের সক্ষমতা বজায় থাকা।
ডা. বাদেসা বলেন, “সহজে হাঁটতে পারা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট না হওয়া বা বাজারের ব্যাগ নিজে বহন করতে পারা এসবই ভালোভাবে বয়স বাড়ার ইঙ্গিত।”
শরীরের ভারসাম্য, শক্তি ও সহনশীলতা ঠিক থাকলে মানুষ নিজের কাজ নিজে করতে পারে এবং স্বাধীনতা বজায় থাকে।
মানসিক সতর্কতা ও শেখার আগ্রহ
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার ভয় অনেকেরই থাকে।
তবে ডা. বাদেসার মতে- যারা মানসিকভাবে ভালোভাবে বয়স বাড়ান, তারা সতর্ক ও সক্রিয় থাকেন। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ হারান না, পড়াশোনা বা ধাঁধার মতো কাজে আনন্দ খুঁজে পান এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নিজে নিতে সক্ষম হন।
এই মানসিক তীক্ষ্ণতা জীবনের মান বাড়ায়। নিজের আর্থিক বা পারিবারিক বিষয় নিজে সামলাতে পারা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং জীবনে তৃপ্তি আনে।
আবেগের স্থিতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
আবেগগত দৃঢ়তা থাকলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কম পড়ে। এতে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
এ ধরনের ইতিবাচক মনোভাব আশপাশের মানুষদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে একাকিত্ব বা হতাশার ঝুঁকি কমে। বয়সের সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন আবেগে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক সম্পর্কের দৃঢ়তা
সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক সুস্থ বার্ধক্যের জন্য প্রয়োজনীয়। পরিবার, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। যা মানসিক চাপ কমায় এবং জীবনের অর্থবোধ বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ জীবনও পান।
শখ ও জীবনের উদ্দেশ্য ধরে রাখা
জীবনে উদ্দেশ্যবোধ থাকলে তা স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কোনো শখ, আংশিক কাজ, বাগান করা বা পরিবারের ছোটদের দেখাশোনা যে কাজই হোক, যদি তা আনন্দ দেয় এবং প্রতিদিন কিছু করার প্রেরণা জোগায়, তবে সেটি সুস্থভাবে বয়স বাড়াতে সাহায্য করে।