শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুলাউড়ায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভবন ও হাজার একর জমি অবৈধ দখলে চৌদ্দগ্রামে বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ লোহাগড়ায় মতবিনিময় সভা ও পৌর শাখা কমিটি গঠন দেশসেরা স্প্রিন্টার জাকির হোসেনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা শ্রাবণে উপবাস ভাঙুন পুষ্টিকর শুকনো ফলের লাড্ডুতে, রইল সহজ রেসিপি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলো বাংলাদেশ প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতে রাজধানী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ইউরেনাসের চাঁদ এরিয়েলে ছিল ১৬০ কিলোমিটার গভীর মহাসাগর: গবেষণা সাতক্ষীরায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

একটি সফলতার গল্প : একসময় সাইকেল চালিয়ে আসতেন এখন গাড়ি চড়ে যান

জামালপুর থেকে মোহাম্মদ আলী : বাড়ি থেকে টাউনের দূরত্ব ৪/৫ মাইল। প্রতিদিন এই পরিমাণ রাস্তা তিনি আসতেন সাইকেলে চালিয়ে। বাড়ি থেকে রওনা হতেন সকাল ৮টায়। ফিরতেন রাত ১০টার পর। বাড়ি খেতে যাওয়া ছিল অসম্ভব। তাই, কোনোদিন দুপুরে রুটি পুড়ি খেয়ে আবার কোনোদিন না খেয়ে দিন পার করতেন। তার এ জীবন সংগ্রাম ছিল দীর্ঘদিনের। শুরুর জীবনের এমন পরিশ্রমই তাকে সৌভাগ্যের প্রসূতি এনে দিয়েছে! আজ তিনি জামালপুর জেলার একজন সফল ব্যবসায়ী! জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র গড়ে উঠেছে তার মাথাগোজার ঠাঁয়। হয়েছে গাড়ি বাড়ি। যে বাড়ি থেকে সাইকেল চালিয়ে শহরে আসতেন আজ শহর থেকে গাড়ি চালিয়ে তিনি বাড়ি যান !
জানা যায়, সময়টা ১৯৯৭ সাল। জামালপুর সদর উপজেলার কোচগড় গ্রামের মরহুম আলী আকবর এর বড় ছেলে মোঃ নূরুল ইসলাম নুরুজ। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তখনও তার পড়াশোনা শেষ হয়নি । সবে ইন্টার পাশ করেছেন।অনেকটা সাংসারিক প্রয়োজনে ওই অবস্থাতেও বাবা মা বিয়ে করান তাকে। কিন্তু, বেকার নুরুজের মাথায় কিছু করার ভাবনা তাড়া করত সব সময় । একদিন তার এ ভাবনা শেয়ার করেন স্ত্রীর সাথে । অবশেষে জামালপুর শহরে সমন্ধীর দোকানে বসে ব্যবসা শিখার সুযোগ মিলে তার। বাড়ি থেকে জামালপুর টাউন ৪/৫ মাইলের রাস্তা। তখন প্রতিদিন এই রাস্তা তিনি আসতেন সাইকেল চালিয়ে । সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকতেন দোকানে । এভাবে ৩/৪ বছর চলার পর ২০০০ সালের দিকে এক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান তার সমন্ধি, জামালপুর নিশান ইলেকট্রনিকস এর মালিক হেলাল উদ্দিন। তার অবর্তমানে স্বভাবতই ব্যবসার দায়িত্ব পরে যায় নুরুজের কাঁধে। নুরুজও সেই বোঝা কাঁধে নেন শক্ত হাতে। তার সমস্ত ধ্যান জ্ঞান পরিশ্রম ও সততা ঢেলে দেন ব্যবসায়। কঠোর অধ্যবসায় সততা ও নিষ্ঠায় আজ তিনি জামালপুর জেলার একজন সফল ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী। নুর “ইলেক্ট্রনিকস” নাম আজ সারা জেলায় পরিচিত। দুই যুগের ব্যবসায় তিনি কামিয়েছেন নাম, যশ, খ্যাতি। অর্জন করেছেন সততা, বিশ্বাস ও গ্রাহকে আস্থা।
এই ব্যবসাকে ঘিরেই বর্তমানে জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দে গড়ে উঠেছে তার একটি মাথাগোঁজার ঠাঁয়।
হয়েছে বাড়ি গাড়ি। ব্যবসায়ীক প্রতিনিধি হিসেবে ভ্রমণ করেছেন মালেশিয়া, চীন থাইল্যাণ্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো বড়ো বড়ো দেশ। এছাড়াও অর্জন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির সেরা বিক্রেতা, শ্রেষ্ঠ বিক্রেতার পরুস্কার।
ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম নুরুজের  দুঃসময়ের সাথী, তার সফলতার স্বাক্ষী আরেক ব্যবসায়ী, মাফিক ইলেকট্রনিকস এর মালিক, মোঃ আঃ কাদের মাফিক বলেন, নুরুজ ভাইয়ের আগে পরে অনেকে ইলেকট্রনিকস ব্যবসা শুরু করে ছিলেন। তাদের অনেকে ঝড়ে গেছে, অনেকে ক্ষতিমুখের পড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কিন্তু, নুরুজ ভাইয়ের ছিল অপরিসীম ধৈর্য শক্তি ও মনোবল। তার সততা, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় তিনি তার ব্যবসাকে এতো দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
জামালপুরের এ সফল ব্যবসায়ী মোঃ নুরুল ইসলাম নুরুজ এর কাছে তার ব্যবসায়ীক  সফলতার রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো রহস্য নেই। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত, মানুষের দোয়া, আমার সদিচ্ছা ও সততায় আমাকে এ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: